বাস্তবতা তুলে ধরছে স্যাটেলাইটের ছবি

Please Share

রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ৪০ মাইল দীর্ঘ বহরের ছবি আলোচিত হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ছবি: ম্যাক্সার টেকনোলজিস

ছবি সরবরাহ করে যুদ্ধের বাস্তবতাকে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে ‘প্ল্যানেট’ এবং ‘ম্যাক্সার’-এর মতো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইটগুলো। আর এই ছবিগুলোর সুবাদে ইউক্রেইনের যুদ্ধক্ষেত্রে আসলে কী হচ্ছে বা আগ্রাসী রাশিয়ার বাহিনী কতোদূর এগোলো– হাজার মাইল দূরে বসে এই বিষয়গুলো বিচার বিবেচনার সুযোগ পাচ্ছেন সামরিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগন উভয়েই।

গেল কয়েক বছরের যুদ্ধ-বিগ্রহের ঘটনাতেও স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের উপস্থিতি ছিল অনলাইনে। কিন্তু, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের যে পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত বর্তমানে অনলাইনে রয়েছে, সে তুলনায় আগের তথ্য-উপাত্তের আকার নেহাতই নগণ্য ছিল বলে জানিয়েছেন গ্লেন।

বিবিসি বলছে, এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে এমন তথ্য-উপাত্তের সহজলভ্যতায়। স্যাটেলাইটের থেকে সংগ্রহ করা তথ্য আর ছবি জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গোপন রাখে বিভিন্ন দেশের সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কিন্তু, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘আনক্লাসিফায়েড’ ছবি ও তথ্য-উপাত্ত বিক্রির অনুমতি আছে দীর্ঘ দিন ধরেই। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের বেলায় এই তথ্য-উপাত্ত, আর ছবি-ভিডিওতে সহজ নাগাল পাচ্ছেন বিশ্বের সবাই।

গোয়েন্দা সংস্থা আর সামরিক বাহিনীর বাইরেও বিভিন্ন কাজে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংস্থা; দাবানলের গতিপথ থেকে শুরু করে মাঠের ফসল এমনকি সমুদ্রে ভাসমান জাহাজের গতিবিধির উপর নজর রাখতেও ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন স্যাটেলাইট।

এর ফলে কক্ষপথে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের সংখ্যা বেড়েছে এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কাজে লাগানোর সুযোগও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘কুইল্টি অ্যানালিটিক্স’-এর অংশীদার ক্রিস কুইল্টি।

“আকাশে এখন অনেক চোখ”– বলেন তিনি।

গেল দুই দশকে মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা বেড়েছে লক্ষ্যণীয় হারে। এখন চাইলেই প্রতি বর্গ কিলোমিটার ১০ ডলার হারে স্যাটেলাইট থেকে তোলা হাই-রেজুলিউশন ছবি কিনতে পারেন যে কেউ।

আর ক্ষেত্রবিশেষে ছবিগুলোর রেজুলিউশন এতোটাই ভালো থাকে যে, ৩০ সেন্টিমিটার বাই ৩০ সেন্টিমিটার ভূ-পৃষ্ঠের ছবিতেও পরিষ্কার বোঝা যায় ছোটখাটো খুঁটিনাটি। যানবাহন বা রাস্তার দিকচিহ্নের মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করা যায় সহজেই।

এ ছাড়াও, চাইলে ২৪ ঘণ্টায় একাধিকবার একই জায়গার ছবি তোলার জন্য স্যাটেলাইটকে প্রোগ্রাম করতে পারে পরিচালক প্রতিষ্ঠান। ফলে পরিবর্তনগুলো সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায় সহজেই।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কুইল্টি।

“মৌলিক সক্ষমতায় নাটকীয় কোনো পরিবর্তন আাসেনি। বরং মানুষের ডেটা হজম করা ও ব্যবহারের সদিচ্ছা এবং পন্থায় পরিবর্তন এসেছে।”– বলেন তিনি।

আরও উন্নত প্রযুক্তির ‘সিনথেটিক অ্যাপারচার রেডার (এসএআর)’ ছবির ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের এই আগ্রহ আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এই ছবিগুলো বিশ্লেষণের কাজ অনেক ক্ষেত্রেই অপটিকাল লেন্সে তোলা ছবির তুলনায় বেশ জটিল।