দিল্লির হয়ে মুস্তাফিজ প্রথম জয়ের দেখা পেলেন

Please Share

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) চলতি আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে অভিষেক হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের। প্রথম দুই ম্যাচে জয় শূন্য থাকার পরে, অবশ্য তৃতীয় ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছেন তিনি। ম্যাচটিতে কলকাতাকে তারা হারিয়েছে ৪৪ রানের ব্যবধানে।

আইপিএলে রোববার (১০ এপ্রিল) দিল্লি ক্যাপিটালসের দেওয়া ২১৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৪ ওভার মোকাবিলা করে নাইট রাইডার্সের ইনিংস থামে ১৭৪ রানে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার।

দিল্লির হয়ে বল হাতে ৪ উইকেট শিকার করেন কুলদীপ যাদভ। নিজের ঝুলিতে ৩ উইকেট পুরেন খলিল আহমেদ। কোনো উইকেট না পেলেও দলের সবচেয়ে ইকোনোমিকাল বোলার ছিলেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন মাত্র ২১ রান।

এর আগে ইনিংস শুরুর প্রথম বলেই উইকেট পেতে পারতেন টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম বলেই কলকাতার ওপেনার আজিঙ্কা রাহানের বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন করলে, আম্পায়ার আঙুল তুলে আউটের সংকেত দেন। কিন্তু রিভিউ নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান রাহানে। বল প্যাডে লেগে মূলত উইকেটকিপার রিশভ পন্তের হাতে গিয়েছিল।

পরের বলে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন, আঙুল উচিয়ে আম্পার ফের আউট দেন। এবারও রাহানে রিভিউ নেন, যেখানে দেখা যায় বল প্রথমে ব্যাটের কানায় লেগে তারপর প্যাডে হিট করেছে। আর এর পরের বল কট বিহাইন্ড হলেও, বোলার বা কিপার কারও থেকে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। সত্যি সত্যি আউট হয়েও এবার প্রাণ ফিরে পান রাহানে। তবে তাকে ক্রিজে থাকতে দেননি খলিল আহমেদ।

এর আগে নিজের করা প্রথম ওভারে খলিল তুলে নেন আরেক ওপেনার ভেঙ্কাটেশ আইয়ারের  উইকেট। রাহানে ৮ ও ভেঙ্কাটেশের ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। তাদের বিদায়ের পরে দলকে অবশ্য লড়াইয়ে ফেরান শ্রেয়াস আইয়ার ও নিতিশ রান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দু’জনের ব্যাট থেকে আসে ৬৯ রান।

এরপর ললিত যাদভ এসে নিতিশকে এবং কুলদীপ যাদভ আইয়ারকে সাজঘরে ফেরালে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কলকাতা। আইয়ার ৩৩ বল মোকাবিলা করে ৫ চার ও ২ ছয়ের মারে ৫৪ রান করেন। ৩ ছক্কার সাহায্যে ২০ বলে ৩০ রান করে আউট হন আইয়ার। শেষ দিকে কুলদীপ, শার্দুল ও খলিলের বোলিং তোপে বেশি দূর যেতে পারেনি নাইট শিবির। আন্দ্রে রাসেল ২৪ ও স্যাম বিলিংস ১৫ রান করে আউট হন।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পৃথ্বি শ ও ডেভিড ওয়ার্নারের ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ পায় দিল্লি ক্যাপিটালস। নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে মুস্তাফিজদের সংগ্রহ ২১৫ রান।

পৃথ্বি ৭ চার ও ২ ছয়ের মারে ২৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে ৬ চার ও ২ ছয়ের মারে ৪৫ বলে ৬১ রান করেন ওয়ার্নার। শেষ দিকে শার্দুল ঠাকুর ১১ বলে ৩ ছয় ও ১ চারে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ১ ছয় ও ২ চারে ১৪ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন অক্ষর প্যাটেল।

কলকাতার হয়ে ২১ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন সুনীল নারিন। এছাড়া ভরুণ চক্রবর্ত্তী, উমেশ যাদভ ও আন্দ্রে রাসেল একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে মুম্বাইয়ে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিংয়ে দলকে ভালো শুরু এনে দেনে পৃথ্বি শ ও ডেভিড ওয়ার্নার। দুজনের ওপেনিং জুটিতে আসে ৯৩ রান। ইনিংসে নবম ওভারে এসে তাদের জুটি ভাঙেন ভরুণ চক্রবর্ত্তী। এরপর ক্রিজে নেমে ওয়ার্নারকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দিয়ে একাই বিধ্বংসী ব্যাট চালাতে থাকেন অধিনায়ক রিশভ পন্ত। সমান ২ চার ও ছক্কার মারে ১৪ বলে ২৭ রান করেন তিনি।

পন্ত ঝড় এসে থামান নাইট রাইডার্সের বোলার আন্দ্রে রাসেল। তার বিদায়ের পরে দিল্লি একে একে হারান ললিত যাদভ ও রভম্যান পাওয়েলের ‍উইকেট। অনেক্ষণ ক্রিজে আঠার মতো লেগে থেকে তাদের সঙ্গে সাজঘরের পথ ধরেন ওয়ার্নারও। ফলে ভালো শুরুর পরও দুইশো রান ছাড়ানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেল ও শার্দুল ঠাকুরের বিধ্বংসী ব্যাটে মনে হচ্ছিল, আরেকটু আগে নামলে, তারা স্কোরটা আড়াইশোতে নিয়ে যেতে পারতেন।