আধুনিক অ্যাকশন সিনেমার অগ্রদূত কিছু অজানা তথ্য জ্যাকি চ্যানের

Please Share

জ্যাকি চ্যান, যার নাম শুনলেই চোখে ভাসে কুংফু-মার্শাল আর্টের চোখ ধাঁধানো সব প্রদর্শনী আর দুর্দান্ত সেন্স অব হিউমারের এক অসাধারণ মিশ্রণ। নিত্য নতুন সব অ্যাকশন স্টান্ট আর হিউমার তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা। সারা পৃথিবীতে এমন ঘর পাওয়া সত্যিই মুশকিল যে ঘরে জ্যাকি চ্যানের ফ্যান নেই। আর আজ ছিল আধুনিক অ্যাকশন সিনেমার অগ্রদূত জ্যাকি চ্যানের ৬৮ তম জন্মদিন। চলুন জেনে নিই তার সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।

১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল চার্লস চ্যান ও লি লি চ্যানের ঘরে জন্ম নেন চ্যান কং স্যান। শৈশব থেকেই লড়াই করেছেন চরম দারিদ্র্যের সাথে। কম্যুনিস্ট শাসন থেকে বাঁচতে ৭ বছর বয়সী চ্যানকে হংকংয়ে রেখেই তার বাবা-মা পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর নিঃসঙ্গ চ্যান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন হংকংয়ের চাইনিজ অপেরা ইন্সটিটিউটে। সেখানেই তিনি শেখেন মার্শাল আর্ট, সঙ্গীত, অভিনয় এবং অ্যাক্রোবেটিকস।

এরপর, ভাগ্যের অন্বেষণে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। উচ্চতা কিছুটা কম হওয়ায় সেখানে তার সহকর্মীরা তাকে ডাকতেন লিটল জ্যাকি নামে। অস্ট্রেলিয়ায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই জ্যাকি চ্যান কাজ করার সুযোগ পান ব্রুসলির স্টান্টম্যান হিসেবে। ১৯৭২ দ্য চাইনিজ কানেকশন ও ১৯৭৩ সালে এন্টার দ্য ড্রাগন সিনেমায় ব্রুসলির স্টান্টম্যান হিসেবে সিনেমায় কাজ করেন তিনি। আর এই স্টান্টম্যানের কাজই ভাগ্য বদলে দেয় জ্যাকির।

মার্শাল আর্টের লিজেন্ড ব্রুসলির সিনেমায় তো বটেই, নিজের সিনেমায়ও কখনও বডি ডাবল ব্যবহার করেননি জ্যাকি। নিজের স্টান্ট নিজেই করতে গিয়ে ৩ বার ভেঙ্গেছেন নাক, বিভিন্ন সময়ে ভেঙ্গেছেন দুই হাতের সবগুলো আঙ্গুল, এমনকি দুই কলারবোনসহ বাদ যায়নি মাথার খুলিও। এতসব কাটা-ছেড়া আর ভাঙ্গা নিয়ে স্টান্ট করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা তো পেয়েছেনই, গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও তাকে দিয়েছে সবচেয়ে বেশি স্টান্ট করা অভিনেতার স্বীকৃতিও।

বাদ যায়নি ভিডিওগেমও, ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘জ্যাকি চ্যান: স্টান্ট মাস্টার’ নামের একটি ভিডিও গেমেও কাজ করেন তিনি।

গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আরও একটি রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন জ্যাকি। এক সিনেমায় সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট কিন্তু তার নামেই! চাইনিজ জোডিয়্যাক সিনেমায় তার নামের নিচে আছে লেখক, পরিচালক, মূল চরিত্র, কণ্ঠসহ ১৫টি ক্রেডিট। এক সিনেমায় এত বেশি ক্রেডিট আর কোনো চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নেই।

সিনেমায় যেমনটা দেখা যায় ব্যক্তি জ্যাকি চ্যান কিন্তু তার থেকে খুব বেশি আলাদা নন। কঠিন জীবন সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে বিচিত্র সব বিদ্যা। তিনি অনর্গল কথা বলতে পারেন, ক্যান্টোনিজ, ম্যান্ডারিন, ইংলিশ, জাপানিজ, জার্মান, কোরিয়ান এবং থাই ভাষায়। ছোটবেলায় বোর্ডিং স্কুলে শেখা গানও কিন্তু ভোলেননি তিনি। ইংলিশ আর ক্যান্টোনিজ ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে তার গানের অ্যালবামও।

৫৬ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে জ্যাকি অভিনয় করেছেন দুইশোর বেশি সিনেমায়, পেয়েছেন জগৎজোড়া খ্যাতি। ২০১৬ সালে নিজের অর্জনের খাতায় যোগ করেছেন অস্কারও।